বদরুলের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভে উত্তাল এমসি কলেজ, সড়ক অবরোধ-ভাঙচুর
https://sylhetviews24.blogspot.com/2016/10/news_4.html
কলেজছাত্রী খাদিজা বেগম নার্গিসের ওপর হামলার প্রতিবাদে ও ছাত্রলীগ নেতা বদরুলের শাস্তির দাবিতে ঘটনাস্থল এমসি কলেজে বিক্ষোভ করছেন ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (০৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টায় এমসি কলেজে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। কর্মসূচি শেষে এমসি কলেজ সংলগ্ন টিলাগড়ে সিলেট-তামাবিল সড়কে দু’টি প্রাইভেটকারসহ ৭টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।
সকাল সাড়ে ১১টায় এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে হামলাকারী শাবি ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক বদরুল আলমের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে একটি বিক্ষোভ মিছিল গোটা ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে।
শিক্ষার্থীরা শাবি ছাত্রলীগ নেতা বদরুল ইসলামের ফাঁসি দাবি করে বিক্ষোভ ও নানা শ্লোগান দিচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের এই বিক্ষোভে শিক্ষক ও অভিভাবকরা সংহতি জানিয়ে শরীক হয়েছেন।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের শাহপরান (রহ.) থানার ওসি শাহজালাল মুন্সি জানান, বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা কয়েকটি গাড়িতে হামলার চেষ্টা চালিয়েছে। গাড়ির লুকিং গ্লাস ভাঙচুর করেছে।
সোমবার বিকালে এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে সরকারি মহিলা কলেজের স্নাতক ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী খাদিজা বেগম নার্গিসের (২৩) ওপর হামলা চালায় শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শেষবর্ষের ছাত্র এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহ সম্পাদক বদরুল ইসলাম।
এসময় ধারালো ছুরি দিয়ে খাদিজার শরীরের বিভিন্ন স্থানে উপর্যুপুরি ছুরিকাঘাত করে বদরুল। এতে খাদিজা মাথা ও পায়ে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে যায়।
সেখানে রাত ১টা পর্যন্ত তার চিকিৎসা চলছিল। তার অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে দ্রুত ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে।
এ ঘটনার পর এমসি কলেজের শিক্ষার্থীরা হামলাকারী বদরুলকে গনপিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। গণপিটুনিতে আহত বদরুলকেও সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত খাদিজা আক্তার সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। পরীক্ষা দিতে সে সোমবার এমসি কলেজে গিয়েছিলো।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সিলেট সদর উপজেলার মোগলগাঁও ইউনিয়নের হাউসা গ্রামের মাসুক মিয়ার মেয়ে খাদিজা আক্তার নার্গিসের বাড়িতে লজিং থাকত শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) অর্থনীতি বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র ও শাবি ছাত্রলীগের সহসম্পাদক বদরুল আলম।
সেখানে থাকাকালে মেয়েটির কাছে প্রেম নিবেদন করে সে। নার্গিস বারবার প্রত্যাখ্যান করে। বিকেলে পরীক্ষা দিয়ে বের হওয়ার পর এমসি কলেজ মসজিদের পেছনে শিক্ষার্থীদের সামনে ধারালো চাপাতি দিয়ে কোপাতে থাকে বদরুল। প্রত্যক্ষদর্শী লোকজন নার্গিসের চিৎকার শুনে এগিয়ে যায়। তারা নার্গিসকে সংকটাপন্ন অবস্থায় উদ্ধার করে এবং বদরুলকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে।

