অপরূপ সাতছড়ি
সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান ছায়া ঢাকা পাখির কোলাহলমুখর সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান। প্রকৃতির অপরূপ লীলাভূমি এ উদ্যানটি চোখে না দেখলে মনেই হবে ...
https://sylhetviews24.blogspot.com/2016/05/blog-post_88.html
![]() |
| সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান |
ছায়া ঢাকা পাখির কোলাহলমুখর সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান। প্রকৃতির অপরূপ লীলাভূমি এ উদ্যানটি চোখে না দেখলে মনেই হবে না যান্ত্রিক সভ্যতার বাইরে অন্য জগৎ আছে। যেখানে প্রাকৃতিক সৌদর্য্য অবলোকন করা যায় আপন মনে।
সিলেটের প্রবেশদ্বার নামেখ্যাত মাধবপুরের চুনারুঘাটের সীমান্তবর্তী এলাকায় সাতছড়ির অবস্থান। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের মাধবপুর উপজেলার জগদীশপুর মুক্তিযোদ্বা চত্বর থেকে পূর্ব-দক্ষিণে পুরনো মহাসড়কে চা বাগানের মধ্য দিয়ে আঁকাবাঁকা পথ ধরে ছয় কিলোমিটার অগ্রসর হলেই দেখা মিলবে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের। রাস্তার পাশেই রয়েছে টিকিট কাউন্টার, প্রাপ্তবয়স্ক ২০ টাকা অপ্রাপ্ত ১০ টাকার বিনিময়ে টিকিট নিয়ে প্রকৃতির সঙ্গে মিতালি করতে সারা দিনের জন্য চলে যেতে পারেন বনের অভ্যন্তরে। সেখানে রয়েছে বড় বড় বৃক্ষরাজি, পাখির কলতান, উঁচু-নিচু পাহাড়, নাম না জানা অসংখ্য পাহাড়ি ফুল আর প্রকৃতির সবুজ জগৎ। ৩০ মিনিট থেকে ৪ ঘণ্টা হেঁটে চলার রাস্তা রয়েছে। ক্লান্ত হলে রয়েছে গোল ঘরে বসার ব্যবস্থা।
সাতটি পাহাড়ি ছড়ার উপস্থিতির কারণে এই উদ্যানটির নামকরণ করা হয়েছে সাতছড়ি। হালকা লাল কিংবা ধূসর নয় হাঁটতে পারেন সাদা বালির ছড়ায়। দেখা পাবেন বনের অধিবাসী হরিণ, উল্লুক, খরগোশ, হনুমান, অসমী বানর, চশমা বানরের।
তবে দাড়িওয়ালা বানরকে দেখে মনে হবে এরা পর্যটকদের পথ প্রদর্শক। দেখা মিলতে পারে হরিণেরও। এখানে রয়েছে অসংখ্য উদ্ভিদ লতাগুল। রয়েছে তিপরা বস্তি। বস্তিতে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া ভিতরে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। সাহায্যের জন্য রয়েছে ইকু ট্যুর গাইড ও পর্যটক সহায়ক পুলিশ। সাতছড়িতে রয়েছে একাধিক পিকনিক স্পট। প্রায় সারা বছরই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রকৃতিপ্রেমী পর্যটকরা সাতছড়িতে আসেন তবে শুক্র, শনিবার দুদিন বেড়াতে আসা লোকজনের ঢল নামে।
বাংলাদেশের বন ও জীববৈচিত্র সংরক্ষণের উদ্দেশে ২০০৩ সালে নিসর্গ নামের একটি সংস্থা দেশের যে পাঁচটি জায়গায় কাজ শুরু করে, সাতছড়ি তার মধ্যে একটি।

