নান্দনিক কীন ব্রিজ

কীন ব্রিজ শহর সিলেট-এর বুক চিরে প্রবাহিত হয়েছে সুরমা নদী। ত্রিশের দশকে সুরমা নদী নৌকাযোগে পার হতে হতো। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফ...

সিলেট শহরে যাতায়াতের সুবিধার্থে নগরের প্রবেশ দ্বারে নির্মান করা হয় ব্রিজ। নাম দেওয়া হয় কীন ব্রীজ’।
কীন ব্রিজ


শহর সিলেট-এর বুক চিরে প্রবাহিত হয়েছে সুরমা নদী। ত্রিশের দশকে সুরমা নদী নৌকাযোগে পার হতে হতো। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে সিলেট নগরীর আয়তন বৃদ্ধি পায়। সিলেট শহরে যাতায়াতের সুবিধার্থে নগরের প্রবেশ দ্বারে নির্মান করা হয় ব্রিজ। নাম দেওয়া হয় কীন ব্রীজ’।

স্থাপত্যশৈলীর নান্দনিকতা কীন ব্রীজকে করেছে আকর্ষনীয়। কালের বিবর্তনে কীন ব্রীজ হয়ে উঠেছে সিলেট নগরীর ঐতিহ্যের অন্যতম অংশ। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে বয়স বেড়েছে কীন ব্রীজের। ব্রীজের মেয়াদ উত্তীর্ন হওয়ায় কীন ব্রীজ দিয়ে এখন আর ভারী যানবাহন চলাচল করে না। বয়সের ভারে নূহ্য হয়ে পড়লেও পর্যটকদের কাছে কীন ব্রীজ আকর্ষনীয়। প্রতিদিনই কীন ব্রীজের নান্দনিকতা প্রত্যক্ষ করেন হাজার হাজার মানুষ।

১৮৮৫ সালে সিলেট মিউনিসিপ্যালিটি কমিটি গঠিত হয়। এ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সুরমা নদীর উপর নির্মিত লোহার সেতুটির নামকরণ করা হয় আসাম প্রদেশের তৎকালীন গভর্ণর মাইকেল কীন-এর নামানুসারে।

এক সময় আসামের সাথে সিলেটের যোগাযোগের মাধ্যম ছিল ট্রেন। সঙ্গত কারণেই সুরমা নদীতে ব্রীজ স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। রেলওয়ে বিভাগ ১৯৩৩ সালে সুরমা নদীর ওপর ব্রীজ নির্মাণের উদ্যাগ নেয়। ১৯৩৬ সালে ব্রীজটি আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেওয়া হয়।

কীন ব্রীজ লোহা দিয়ে তৈরী। এর আকৃতি ধনুকের ছিলার মত বাঁকানো। ব্রীজটির দৈর্ঘ্য ১১৫০ ফুট। প্রস' ১৮ ফুট। ব্রীজ নির্মাণে তখনকার দিনে ব্যয় হয়েছিল প্রায় ৫৬ লাখ টাকা।

তৎকালীন আসাম সরকারের এক্সিকিউটিভ সদস্য রায় বাহাদুর প্রমোদ চন্দ্র দত্ত এবং শিক্ষামন্ত্রী আব্দুল হামিদ ব্রীজটি নির্মানের ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখেন। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ডিনামাইট দিয়ে ব্রীজের উত্তর পাশের একাংশ উড়িয়ে দেয়। স্বাধীনতার পর কাঠ ও বেইলী পার্টস দিয়ে বিধ্বস্ত অংশটি মেরামত করা হয়। পরবর্তীতে হালকা যান চলাচলের জন্য ব্রীজটি খুলে দেওয়া হয়। ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ রেলওয়ের সহযোগিতায় ব্রীজের বিধ্বস- অংশ কংক্রীট দিয়ে পুনঃনির্মাণ করা হয়। তৎকালীন নৌ বাহিনীর প্রধান রিয়াল এডমিরাল এম এইচ খান সংস্কারকৃত ব্রীজটি উদ্বোধন করেন।

সিলেট নগরীর প্রবেশ দ্বার হিসেবে পরিচিতি পাওয়া কীন ব্রীজ দেখতে প্রতিদিনই বিপুল সংখ্যক পর্যটক ভীর জমান সুরমা পাড়ে। কীন ব্রীজের নান্দনিকতা দেখে বিমুহিত হন দর্শনার্থীরা। অনেকে ছবি তুলে নিয়ে যান কীন ব্রীজের।

বিগত জোট সরকারের আমলে ঐতিহ্যবাহী কীন ব্রীজসহ সুরমাপাড়ের সৌন্দর্য্য বর্ধন করা হয়। প্রায় ৫ কোটি ব্যায়ে কীন ব্রীজের দুপাশে দুটি সুউচ্চ গেইট, সুরমাপাড়ে ভ্রমনার্থীদের জন্য মনোরম পরিবেশ তৈরী করায় দর্শনার্থীদের কাছে আরও আকার্ষনীয় হয়ে উঠেছে কীন ব্রীজ।

Related

দর্শনীয় স্থান 2618849199542500184
Seo Services

সিলেট

সিলেট উত্তর পূর্ব বাংলাদেশের একটি প্রধান শহর, একই সাথে এই শহরটি সিলেট বিভাগের বিভাগীয় শহর। এটি সিলেট জেলার অন্তর্গত।

সুরমা নদীর তীরবর্তী এই শহরটি বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ ও গুরুত্বপুর্ণ শহর।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মন্ডিত এ শহরটি দেশের আধ্যাত্মিক রাজধানী হিসেবে খ্যাত।

শিল্প, প্রাকৃতিক সম্পদ ও অর্থনৈতিক ভাবে সিলেট দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম ধনি জেলা। wikipedia

সর্বমোট পাঠক

item